April 19, 2026, 11:28 am

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট,প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

সিদ্ধিরগঞ্জ,নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জে অংশে আজ শুক্রবার ভোর থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে ১৮ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়েছে যানজট। এ কারণে যানবাহন থেকে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন বাসায় আবার অনেককে দেখা যাচ্ছে গাড়ি থেকে নেমে বাতাস খাচ্ছেন ।

তীব্র যানজটের মুখে বাসচালক থেকে শুরু করে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য মহাসড়কে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে পাঁচ মিনিটের পথ এক ঘণ্টায়ও পাড়ি দেওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, মৌচাক, সানারপাড় গিয়ে এমন যানজটের চিত্র লক্ষ করা যায়। সকাল ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যানজট কমেনি। 

সারোয়ার নামে এক ব্যক্তি বলেন, আজ শুক্রবার ছুটির দিন কুমিল্লা গ্রামের বাড়ি যেতে রওনা দিয়েছি। রাস্তায় জ্যামের কারণে আধা ঘন্টার উপর হয় গাড়ি এখানে
দারিয়ে আছে প্রচন্ড গরম তাই গাড়ি থেকে নেমে বাতাস খাচ্ছি । সাহাদাত মিজি নামে এক ব্যক্তি জানান গ্রামের বাড়ি মতলবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি রাস্তায় জ্যামের কারণে যেতে পারছি না তাই বাসায় ফিরে যাচ্ছি।

কামাল নামের এক বাসযাত্রী বলেন, ‘সকালে মদনপুরে যাওয়ার জন্য শিমরাইল মোড় থেকে বাসে উঠেছি। কিন্তু মহাসড়কে তীব্র যানজটের তার উপর অনেক গরম তাই বাস থেকে নেমে বাসায় চলে যাচ্ছি।’ 

সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে বন্দরের লাঙ্গলবন্দ এলাকা পর্যন্ত ঢাকা চট্টগ্রামমুখী লেনে ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়েছে। মনির নামের এক বাসচালক বলেন, ‘সাইনবোর্ড থেকে মাদানি নগড় আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে গেছে। রাস্তায় জ্যাম প্রচন্ড গরম এখানে এসে বাস আর সামনে এগোনোর মতো অবস্থা নেই। যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে বাস থেকে নেমে যাচ্ছে। বাকি পথ পার হতে আর কত ঘণ্টা লাগে কে জানে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি রেজাউল হক বলেন, রাস্তায় একটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছিল সেটিকে সরিয়ে নিয়েছি খুব তারাতাড়ি যানজট স্বাভাবিক হয়ে যাবে আসা করছি ।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা